উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সংশোধন করে বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এর আগে এপ্রিলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া সামনে রেখে পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি। এখন সংশোধনীতে সে তুলনায় ঊর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেখা যাচ্ছে। নতুন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, চীনের অর্থনীতি ঘিরে ইতিবাচক প্রবণতা ও চীন-মার্কিন শুল্ক কিছুটা কমে আসায় বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা গতিশীল হতে পারে। তবে ভবিষ্যৎ শুল্ক ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি। খবর রয়টার্স ও বিবিসি।
তবে এমন এক সময় আইএমএফের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদন প্রকাশ হলো যখন চীন-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সে আলোচনার ভবিষ্যৎ অগ্রগতির ওপর বৈশ্বিক অর্থনীতি নির্ভর করছে।
আইএমএফ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। আগের পূর্বাভাসে এসব দেশগুলোর জন্য প্রবৃদ্ধি প্রক্ষেপণ ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এছাড়া ২০২৬ সালের জন্যও পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৯ থেকে কিছুটা বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছে।
আইএমএফ জানিয়েছে, পূর্বাভাস সংশোধন করে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে চীন। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির ২০২৫ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ করা হয়েছে। কারণ চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) চীনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ছিল। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-চীন পাল্টাপাল্টি শুল্কহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়াও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বর্তমানে গড় শুল্কহার ২৪ দশমিক ৪ থেকে কমিয়ে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ আরোপ করা রয়েছে।
তবে ঝুঁকিও আছে। ১২ আগস্টের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে স্থায়ী শুল্ক চুক্তি না হলে নতুন শুল্ক কার্যকর হতে পারে। আইএমএফ সতর্ক করে বলেছে, বাণিজ্যনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি আবারো মন্থর হতে পারে।
প্রতিবেদনে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতি ব্রাজিলের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ২ দশমিক ৩ শতাংশে নামিয়েছে আইএমএফ। ২০২৪ সালে দেশটির ৩ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। সংস্থাটির মতে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন শুল্ক আরোপ করলে ব্রাজিলের অর্থনীতি আরো শ্লথ হতে পারে।
এদিকে রাশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও সংশোধনের পর কমে এসেছে। রাশিয়ার প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ থেকে নামিয়ে দশমিক ৯ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ থেকে দশমিক ৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিশ্ব অর্থনীতির সার্বিক চিত্রেও কিছুটা উন্নতি দেখা যাচ্ছে। আইএমএফ ২০২৫ সালের জন্য বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ২ দশমিক ৮ থেকে বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করেছে। ২০২৬ সালের জন্য পূর্বাভাস রাখা হয়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। তবে জানুয়ারিতে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় এ হার এখনো কম।
আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়েরে-অলিভিয়ের গুরিনচাস বলেন, ‘শুল্ক কিছুটা শিথিল হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি এসেছে। তবে শুল্ক যদি এ মাত্রায় স্থায়ী হয়, তাহলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হতে পারে।’
আইএমএফ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক শুল্ক শিথিলতার কারণে অনেক দেশ আগেভাগে বেশি পণ্য আমদানি করেছে। তবে এ প্রবণতা বেশিদিন বজায় নাও থাকতে পারে। মজুদ বেড়ে গেলে পরবর্তী সময়ে আমদানি চাহিদা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো যদি বাণিজ্যনীতির অস্থিরতা কাটিয়ে অবকাঠামো ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে পারে, তবে প্রবৃদ্ধি আরো গতিশীল হবে।